রাজধানীতে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও গ্রেনেড হামলা, এবং কিছু ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীর ধর্ষণ ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল করেছেন। শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক সংলগ্ন স্মরণ চত্বরে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মশাল মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন— “আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই”, “নবম গ্রেডের মাস্তানি চলবে না”, “বিএসসি ছাড়া ইঞ্জিনিয়ার মানি না”, “কোটা নয়, মেধা চাই”, “ডিপ্লোমারা টেকনিশিয়ান”, “ডিপ্লোমাদের সিন্ডিকেট ভেঙে দাও” ইত্যাদি।
মিছিল শেষে সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলেন, “আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত লাঠিচার্জ ও গ্রেনেড হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইতে হবে। আমাদের তিন দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, “এরপর যদি আবার কোনো শিক্ষার্থীর ওপর হামলা হয়, তবে চবি শিক্ষার্থীরা রাজপথকে অগ্নিময় করে তুলতে বাধ্য হবে।”
সিএসই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, “বুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা এবং তিন দফা দাবির বাস্তবায়নের দাবিতেই আমাদের এই মশাল মিছিল। সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিক।”
ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়াল ইসলাম হামীম বলেন, “দশম গ্রেডের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে কেবল ডিপ্লোমাধারীরা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান, অথচ বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা তা পান না। আবার নবম গ্রেডের পদোন্নতিতে বিশাল অংশ তাদের দখলে থাকে। এটি চরম বৈষম্য। আমরা চাই, সব গ্রেড মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত হোক।”
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি
১. সহকারী প্রকৌশলী (নবম গ্রেড) পদে নিয়োগ: কেবলমাত্র বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ দিতে হবে। কোনোভাবেই কোটাভিত্তিক বা নতুন পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া যাবে না।
২. উপসহকারী প্রকৌশলী (দশম গ্রেড) পদে নিয়োগ: ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও একই ডিসিপ্লিনে উচ্চতর ডিগ্রিধারী বিএসসি গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
৩. প্রকৌশলী পদবির সুরক্ষা: বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছাড়া কেউ প্রকৌশলী পদবি ব্যবহার করতে পারবে না—এর জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নন-অ্যাক্রিডেটেড বিএসসি কোর্সগুলোকে দ্রুত আইইবি-বিএইটিই স্বীকৃতির আওতায় আনতে হবে।
বিডি প্রতিদিন/আশিক